Thursday, February 9, 2023
HomeEntertainmentজীবনে যখন ব্যর্থতার পর ব্যর্থতাই আসে তখন কী করা উচিত?

জীবনে যখন ব্যর্থতার পর ব্যর্থতাই আসে তখন কী করা উচিত?

শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এঅবস্থায় কোন আশাবাদী পরামর্শের তুলনায় আপনার মনোবল ফিরিয়ে আনতে অনেক বেশি কার্যকরী যেটা হতে পারে সেটা হলো একনিরাশা দৃষ্টিভঙ্গি।

গবেষকেরা বলেন, সহজ হিসেবে সাধারণ বুদ্ধি আত্মবিশ্বাসী হতে উৎসাহ জোগায়। কিন্তু জীবনের সিদ্ধান্ত নির্ণয় করার ক্ষেত্রে কীভাবে বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশমান মানসিকতার ব্যক্তিরা এসব বিপত্তি খোলামনে স্বাগত জানান।

আমাদের সর্বক্ষনই বোঝানো হচ্ছে আমরা চাইলে সব পারি, অথবা কিছু পেরে থাকলে আরো ভালোভাবে তা পারতে পারি।

মরণোত্তর দেহ দান করে মানব সেবার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাহাঙ্গীর আলম

আজকের দুনিয়ায় সর্বত্রই আশাবাদের জয়গান―   আপোষের কোনো প্রশ্নই নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জীবনে আজ এতই সুবিধা এনে দিয়েছে যে নিতান্ত ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার অভাব বৈ কোনো কিছুতে সাফল্য না পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এরকম একটা ধারণা আমাদের মনে বদ্ধমূল করে দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত আশাবাদ আমাদের মনে এত প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে যে কোন কিছুতে প্রত্যাশামত ফল না হলেই সেটাকে নিজেদের গাফিলতি ধরে নিয়ে আমরা চূড়ান্ত হতাশার সম্মুখীন হচ্ছি। ভেবে দেখা গেলে, হতাশার মূলে রয়েছে আশাবাদ।

আমরা মনে করি, হতাশা বা ব্যর্থতাকে যারা মেনে নিতে পারেনা তাঁরাই বুঝি নিরাশাবাদী হয়। আসলে পুরো উল্টোটা; সবচেয়ে আশাবাদী ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি হতাশাজনিত তিক্ততা বা রাগ পোষণ করেন। কারণ তাঁরা সবসময়ই কল্পনা করবেন “এর থেকে ভালো হতে পারত।”

বরং অনেক বেশি সচেতন যে জীবন আমাদের প্রত্যাশার ধার ধারে না এবং ব্যর্থতা প্রত্যেকের জীবনে অবশ্যম্ভাবী ও সেটাকে মেনে নিয়েই আমাদের চলা উচিত। তাই অফিসে যেতে গিয়ে ট্রাফিকে আটকে পড়ার দরুন রাগ হলে বা কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে যদি মুষড়ে পড়েন, তবে আপনি আদতে এমন একটা দুনিয়ায় বাস করার আশা রাখছেন যেখানে আপনি কখনোই ট্রাফিকে আটকে পড়বেন না বা কোনো পরীক্ষাতেই ফেল করবেন না?

আপনি অনিবার্যভাবে অকৃতকার্য হবেন” বরং “আপনি অকৃতকার্য হতে পারেন এবং কখনো না কখনো হবেনও, কিন্তু তাতে কোনো চলে যাবে না। সব যেমন ছিল, তেমনই থাকবে।

সাফল্যের উপায় ?

আপনার মানসিকতা কোন ধরনের? মানসিকতা যে ধরনের হোক না কেন, আপনি চাইলে তা পরিবর্তন করে বিকাশমান মানসিকতা উন্নত করতে পারেন। এ জন্য কিছু পরিকল্পনা করে এগোতে পারেন। জেনে নিন পরিকল্পনাগুলো:

  • অসহায় ভাববেন না — সবার জীবনেই কঠিন সময় আসতে পারে। তাই বলে নিজেকে পুরোপুরি অসহায় ভাববেন না। অসহায়ত্বের অনুভূতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটাই আসল পরীক্ষা। এটা থেকে কিছু শিখতে পারেন এবং সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। তা না হলে আরও করুণ অবস্থায় পড়ে যাবেন। অনেকেই অসহায় অবস্থা থেকে নিজেকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে গেছেন। ওয়াল্ট ডিজনিকেই দেখুন না। তিনি ভালো ধারণা ও কল্পনা নেই বলে কানসাস সিটি স্টার থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। অপরাহ উইনফ্রে বাল্টিমোরে অতিরিক্ত আবেগ দেখানোর কারনে টিভি উপস্থাপিকার চাকরি হারিয়েছিলেন। দুটি গাড়ি কোম্পানি ব্যর্থ হয়েছিল হেনরি ফোর্ডের। ইউএসসির সিনেমাটিক আর্টস স্কুল থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। তাঁরা যদি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নতুন আশা নিয়ে ঘুরে না দাঁড়াতেন, তবে কি সফল হতে পারতেন? বিকাশমান মানসিকতার ব্যক্তিরা কখনো নিজেকে অসহায় ভাবেন না। চূড়ান্ত ব্যর্থতাকেই মেনে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারলেই সফলতা আসবে।
  • আবেগপ্রবণ হোন — একজন সফল মানুষ নিরলসভাবে তাঁর অনুভূতি অনুসরণ করে থাকেন। প্রাকৃতিকভাবে কেউ হয়তো আপনার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হতে পারে। কিন্তু বুদ্ধিতে আপনার ঘাটতি থাকলে তা আবেগ দিয়ে পূরণ করতে পারেন। যাঁরা সফল হয়েছেন, তাঁরা আবেগের কঠোর সাধনা করে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেছেন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেটের পরামর্শ হচ্ছে আপনার সত্যিকারের আবেগের বিষয়টি ৫/২৫ পদ্ধতিতে খুঁজে বের করতে পারেন।

১০ কোটি রুপি নিয়ে আসবেন, এক রাত আমি আপনার: ঐশ্বরিয়া

  • ভয়কে জয় করেন — বিকাশমান মানসিকতার ব্যক্তিরা কেবল ভয়কে জয় করেন না, তাদের সাহস অন্যদের চেয়ে বেশি। এর কারণ, তাঁরা জানেন ভয় ও উদ্বেগ আবেগকে নষ্ট করে দেয়। এ থেকে মুক্তির পথ হচ্ছে ভয় ও উদ্বেগের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। বিকাশমান মানসিকতার ব্যক্তিরা নিজেদের নিজের মনের সক্ষমতা বাড়াতে জানেন। তারা জানেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক মুহূর্ত বলে কিছু নেই। তাই অপেক্ষা কিসের? যেকোনো বিপত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা উদ্বেগ দূর করে ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলতে হবে। ইতিবাচক শক্তি অর্জন করতে হবে।
  • ফলাফলের প্রত্যাশা — বিকাশমান মানসিকতার ব্যক্তিরা জানেন, তাঁরা সময়-সময় ব্যর্থ হতে পারেন। তবে তারা ফলের আশা করতে ছাড়েন না। ফলের প্রত্যাশা থাকার অর্থ নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা এবং সফলতার চক্রে জ্বালানি জোগানো।
  • বাড়তি পথ পাড়ি — সফল ব্যক্তিরা কখনো হতোদ্যম হন না। তাঁদের বাজে দিনেও সবকিছু দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে বাড়তি পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা চালান।
  • সবকিছুকে এক সুতোয় গাঁথা — ছোট ছোট বিষয়ে নিজে কীভাবে জবাব দেন, সেগুলোকে নজরে রাখা জরুরি। নিজেকে সঠিক পথে রাখতে নিজের দৈনন্দিন কাজে এসব বিষয়কে যুক্ত রাখতে হবে। তবেই সাফল্যের শীর্ষে উঠতে পারবেন।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

জীবনে যখন ব্যর্থতার পর ব্যর্থতাই আসে তখন কী করা উচিত?



Hero

Welcome to the future of building with WordPress. The elegant description could be the support for your call to action or just an attention-catching anchor. Whatever your plan is, our theme makes it simple to combine, rearrange and customize elements as you desire.

Translate »