Tuesday, January 31, 2023
HomeRelationshipsপ্রেম প্রতিশোধ

প্রেম প্রতিশোধ

আমি প্রেগন্যান্ট আসাদ।তুমি প্লিজ আমার সাথে এখন দেখা করো।আমি তোমাকে মেসেজে ঠিকানা দিচ্ছি।আচ্ছা রাখছি।ফোন রেখে ওই দূর আকাশে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি কি থেকে কি হয়ে গেল, আচ্ছা আসাদ কি আসবে? ও কি আমাকে মেনে নিবে?না কি সব ভাবছি কেন মানবে না আমি তো অন্যকারো সাথে এসব করি নি, যার সাথে দুটো’ দিন পর বিয়ে হবে তার সাথেই তো।আসাদই তো আমাকে জোর করেছে।এসব ভাবনার মাঝেই কে জানি আমার ঘারে হাত রাখলো তাকিয়ে দেখি আসাদ ওকে দেখেই আমি জড়িয়ে ধরতে যাব কিন্তু ও আমাকে দূূরে সরিয়ে দিল।

এসব কি মেহরীমা? তুমি প্রেগন্যান্ট কবে কিভাবে? তুমি জান তুৃমি আমাকে আজ কি উপহার দিয়েছো আই লাভ ইউ মেহরীমা।

আমি অবাক হয়ে গেছি তারমানে আসাদ শুধু আমাকেই চায় আমিও ওকে জড়িয়ে ধরলাম।

আচ্ছা শুন তুমি তো কোনো চেকআপ করাও নাই, আর কালকে তোমাকে চেকআপ করাতে নিয়ে যাব হসপিটালে কেমন এখন বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও আর হ্যা কাউকে কিছু বল না কালকে বলব সবাই কে কেমন বলে কপালে একটা চুমু দিলাম।

আমিও আসাদের কথামত কাউকে কিছু বললাম না বাসায়।

পরেরদিন হসপিটালে আমি আর আসাদ পাশাপাশি বসে আছি একজন ডাক্তারের সামনে।

তো মিস্টার আসাদ আপনি যা করছেন ভেবে করছেন তো? পরে কিন্তু এর দায়ভার আমরা নিব না মনে রাখবেন। নার্স উনার ওয়াইফ কে নিয়ে যাও চেকআপ রুমে।

আমি আসাদের হাত শক্ত করে ধরে আছি কি বলছে ডাক্তার কিসের দায়ভার আমি কিছু বুঝতে পারছি না বল না।আর আমাদের তো এখনও বিয়ে হয় নি আসাদ।

আরে মেহরীমা ডাক্তার কে একটু মিথ্যে বলতে হল আর কি, দায়ভার এর কথাটা এই জন্য বললেন যে তোমাকে আর আমাদের অনাগত বাচ্চা কে চিকিৎসা দিবে সেখানে তুমি যদি ব্যাথা পাও সেটার কথা বলছেন বুঝলে।

তারপর আমি নার্সের সাথে চলে গেলাম। নার্স আমাকে একটা রুমে নিয়ে পানি খেতে দিল আমি চুপচাপ সেটা খেয়ে নিলাম,তারপর আর কিছু মনে নেই।যখন আমার ঘুম ভাঙলো তখন তাকিয়ে দেখি হসপিটালের বিছানায় শুয়ে আছি হাতে স্যালাইন লাগানো নিজেকে বড্ড দুর্বল লাগছে তাও উঠলাম আশেপাশে তাকিয়ে দেখি কোথাও আসাদ নেই তখনই একজন নার্স আসলো।

ওহ আপনার জ্ঞান ফিরেছে তা এখন কেমন লাগছে আপনার, শুনুন বাসায় গিয়ে ফুল রেস্ট থাকবেন একমাস। আর আপাতত আপনি শারীরিক সম্পর্ক থেকে কিছুটা দূরে থাকবেন একবার এবর্শোন করিয়েছেন পরের বার ও এরকম করলে রিস্ক হবে আপনার।

আমি নার্সের কথা শুনে স্তব্ধ  এবোর্শন করিয়েছি মানে তখনই আসাদের ফোন থেকে মেসেজ আসলো,

সরি মেহরীমা এই বাচ্চা টা বাচিয়ে রাখা আমার জন্য সম্ভব নয় তাই নষ্ট করালাম তোমাকে না জানিয়ে। তোমাকে বিয়ে করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয় কারণ আমি ইউজ করা জিনিস ব্যবহার করি না তুমি তো অলরেডি ইউজ হয়ে গেছো। আর বিয়ের আগে বাচ্চা টা বেমানান তাই এই কাজ করা। হালকা অভিনয় করতে হল তোমার সাথে কিন্তু কিছু করার নেই নিজের জন্য হলেও তো করতে হয় তাই না বল।

মেসেজ টা পরে আমি স্তব্ধ হয়ে আছি কিছু বলার মত অবশিষ্ট কিছুই নেই। ফোন টা হাতে নিয়ে কয়েবার আসাদের ফোনে ট্রাই করলাম কিন্তু ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হল না।

একসপ্তাহ পর,,
আবারো আসাদের ফোনে কল দিচ্ছি কিন্তু কেউ ধরছে না অবশেষে  চারবারের মাথায় ওর ফোন রিসিভ করলো সাথে সাথেই আমি বললাম,

প্লিজ আসাদ কল টা কেটো না  প্লিজ একটা বার আমার সাথে দেখা করো শুধু একবার,তারপর তুমি চলে যেও আমি তোমাকে আটকাবো না কথা দিচ্ছি।আচ্ছা আমি ঠিকানা দিচ্ছি তুমি আসো।

তারপর আমি ওকে ঠিকানা টা মেসেজ করে দিলাম।

আমি আর আসাদ মুখোমুখি বসে আছি, নিরবতা ভেঙে আমি বললাম,খুব প্রয়োজন ছিল আমার সাথে এরকম করার? যখন রুম ডেট করার জন্য বার বার আমাকে প্রেশার দিচ্ছিলে তখন কি বলছিলে মনে আছে তুমি আমাকে ভালোবাসো।আমরা তো অন্য কারো সাথে করছি না দু’দিন পর আমাদের বিয়ে। একবার ডেট করলে কিছু হবে না। আর আমি বোকার মত তোমার সব কথা শুনে গেলাম কি হল দিনশেষে আমি ইউজড করা একবার ব্যবহার করা জিনিস তুমি আর ব্যবহার করো না তাই না।কিন্তু এখন যা হবে তার জন্য আমি দায়ী না আসাদ তোমাকে খুব বিশ্বাস করেছিলাম খুব বলেই আসাদকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ওর ঘারে একটা ইনজেকশন পুশ করে দিলাম।

মাথাটা খুব ভারি লাগছে কোনোমতে তাকিয়ে চোখ মেলে নিজেকে হসপিটালে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। আমি তো মেহরিমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম তাহলে হসপিটাল আসলাম কিভাবে সব কিছু মনে করার চেষ্টা করতেই মনে পড়ে গেল মেহরিমা আমাকে একটা ইনজেকশন পুশ করেছিল।আমি একটু নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার পুরুষাঙ্গে ব্যান্ডেজ করা আমি আৎকে উঠলাম আর চিৎকার করতে লাগলাম তখন একজন ডাক্তার আমার সামনে এসে বলা শুরু করলো,

দেখুন মিস্টার আমরা আপনাকে রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পেয়েছি কেউ আপনার পুরুষাঙ্গে খুব বাজে ভাবে আঘাত করেছে। শুধু যে আঘাত করেছে তা নয় কেউ ইচ্ছে করে এই কাজ করছে আপনার পুরুষাঙ্গে একটা সুচ ও ঢুকিয়ে দিয়েছে  এখন সুচ টা বের করতে হল আপনার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলতে হবে যা আপনার জন্য বিপদজনক খুব। আমরা আপনাকে বেস্ট চিকিৎসা দিয়েছি। আপনার পরিবার বাহিরে আছে দরকার হলে ডাকবেন।

ডাক্তার কথাগুলো বলার সময় আমার চোখ উপচে পানি পড়ছে তখনই মেহরিমার ফোন থেকে মেসেজ আসলো,

তোমাকে বিশ্বাস করছিলাম তার মূল্য তুমি দেখিয়ে দিলে। ভালো থাকো আর হ্যা বিয়ে টা ভেঙে দিয়েছি যে ছেলের কোনো ক্ষমতা নেই অক্ষম সেই ছেলের কাছে কে কার মেয়ে বিয়ে দিবে বলো? তার মধ্যে তুমি তো সেরা বেইমান আর বেইমান কে
তো বিয়ে করা যায় না।শাস্তি বড্ড ভয়ংকর হয় মিস্টার আসাদ।ইচ্ছে ছিল তোমাকে নিজ হাতে শাস্তি দেই কিন্তু আফসোস ঘৃণা করি তোমাকে আমি সেখানে তোমার মত ঘৃণিত ব্যক্তিকে ছোঁয়ে শাস্তি কিভাবে দেই বল? তাই  হিজরা ভাড়া করে শাস্তি দিলাম। থাকো এখন নিজের মত করে।

source of kobita

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

প্রেম প্রতিশোধ



Hero

Welcome to the future of building with WordPress. The elegant description could be the support for your call to action or just an attention-catching anchor. Whatever your plan is, our theme makes it simple to combine, rearrange and customize elements as you desire.

Translate »