নায়লা নাঈমের জীবনী আসছে নায়লা নাঈমের জীবনীগ্রন্থ

বাংলাদেশে নাকি সানি লিওনির খোঁজ পেয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম। শুধু তা-ই নয়, ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে নায়লা নাঈম ও সানি লিওনির আবেদনময়ী ছবিগুলো স্থান পায়। পুরো ছবির কোলাজ ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশন জুড়ে দেওয়া হয়। আর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশি সানি লিওনি’ নায়লা নাঈমের প্রচুর ভক্ত ও অনুসারী আছে। তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

নয় বছর ধরে মডেলিং জগতের সঙ্গে যুক্ত দন্ত চিকিৎসক নায়লা নাঈম। ২০১৩ সালে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। পাশাপাশি ভার্চ্যুয়াল জগতে খোলামেলা ছবি প্রকাশ করে সমালোচিত হয়েছেন। তবে সানি লিওনির সঙ্গে তুলনায় করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন নায়লা নাঈম।

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে নায়লা নাঈম বলেন, ‘এখানে খুশি বা দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। তবে মজা পেয়েছি। সানি লিওনি একজন তারকা, সে হিসেবে এটাকে ইতিবাচক মনে করছি। আমি এমনিতেই কিছুটা অভিব্যক্তিহীন মানুষ, সহজেই কিছুতে কিছু যায়-আসে না। তবে নেতিবাচক লেগেছে, কারণ সে একজন পর্ণ তারকা।’

মডেলিংয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন নায়লা নাঈম। কাজ করেছেন গানের ভিডিওতে। গানের ভিডিওতে বেশ খোলামেলাভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঢাকার একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে ২০১২ সালে স্নাতক শেষ করেছেন। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ঢাকার দুটি চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন আলোচিত এই মডেল।

নায়লা নাঈম বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরেই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার জন্য নিজেকে পুরোপুরিভাবে মিডিয়ার কাজের সঙ্গে জড়াতে পারিনি। পরিবারের সবার সহযোগিতায় আমি এখন নিজেকে মিডিয়ার কাজের জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করছি।’

সানি লিওনির সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি নিয়ে নায়লা নাঈম আরও বলেন, ‘আমাকে সানি লিওনির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, তাতে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি মোটেও সানি লিওনিকে অনুসরণ করি না, কিন্তু তাঁকে সম্মান করি, তাঁর অর্জনকে ভালোভাবে দেখি।’

ছিনতাইকারীর কবলে নায়লা নাঈম

আলোচিত ও সমালোচিত মডেল নায়লা নাঈম দিনদুপুরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন। এ ঘটনায় হাতে আঘাতও পেয়েছেন তিনি।

বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়েছেন নায়লা নাঈম। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর বেলা- ১১টা ৪৫ মিনিটে মগবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পর ট্রেনের সিগন্যাল ছেড়ে দিলে ক্রসিং পার হওয়ার সময় দুইজন কালো ছেলে দৌড়ে এসে আমার গায়ে জড়ানো সামনের দিকের মোবাইল এবং টুকটাক রাখার যে ব্যাগ সেটি টানা-হ্যাঁচড়া শুরু করে। ’

তিনি আরও লেখেন, ‘যেহেতু, পিকআপ কমানো ছিল, কারণ রেলক্রসিং পার হচ্ছিলাম, সে অবস্থায় ওদের টানাটানির কারণে আমি স্কুটি নিয়ে বাঁয়ে পড়ে যাই। একজনের হাতে ধারালো কোনো একটা কিছু থাকায় প্রকাশ্যে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ সহজে এগিয়ে আসছিল না এবং আমি পড়ে যাওয়ার পরেও ছেলেটা ঘুরে এসে আমার ব্যাগ ধরে টানাটানি করছিল। পড়ে বাইক থামিয়ে তিনজন মানুষ দৌড়ে এসে আমাকে তুলে দেন!’

এই ঘটনায় নায়লার কনুইয়ে আঁচড় লেগেছে। এই শহরে (ঢাকা) আর থাকতে চান না বলেও ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো জিডি করিনি বলেও জানিয়েছেন এই মডেল।

মডেলিং দিয়ে আলোচিত হলেও নায়লা একজন ডেন্টিস্ট। পশু উদ্ধারকারী ও পশুপ্রেমী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে।

নায়লা নাঈম
নায়লা নাঈমের জীবনী

নায়লা নাঈম ‘দ্য কুইন অব কন্ট্রোভার্সি পার্ট ওয়ান’ নায়লা নাঈমকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের নাম। ৭ নভেম্বর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বইটির লেখক আহমেদ সাব্বির, নাইলা নাঈম, ফটোগ্রাফার আবু নাসের প্রমুখ। গ্রন্থিক প্রকাশনা থেকে প্রকাশ পাওয়া বইটি নায়লার জীবনের গল্প দিয়ে সাজানো প্রথম পর্ব। এই বইয়ে নায়লা নাঈমের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত হয়েছে।

এই বিতর্কিত মডেল বলেন, বইটিকে নায়লা নাঈমের জীবনী বলা হলেও পুরো জীবন এখানে ওঠে আসেনি। এটা ‘পার্শিয়াল বায়োগ্রাফি’ বলতে পারেন। এখানে আছে তার পেশাগত জীবন, ব্যক্তিজীবনের সম্পর্ক এবং কিছুটা অতীত।

বইয়ের প্রথম পাতায় আছে নায়লা নাঈমের হাতে লেখা শুভেচ্ছা বার্তা। মোট ২০টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে গ্রন্থটি।

নায়লা বলেন, আহমেদ সাব্বির যোগাযোগ করলে কিছুদিন সময় নিয়েছিলাম। জানার চেষ্টা করি তার সম্পর্কে। পরে মনে হলো, কাজটি করা যায়। মনোযোগসহকারে তিনি কাজটি করেছেন। আমি বলতাম আর তিনি রেকর্ড করতেন। আমার জীবনের ঘটনাগুলো দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। পাঠকদেরও ভালো লাগবে।

মডেল অভিনেত্রী নায়লা নাঈমকে নিয়ে বই লিখেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক আহমেদ সাব্বির। নায়লার জীবনীভিত্তিক বইটির নাম ‘নায়লা নাঈম দ্য কুইন অব কন্ট্রোভার্সি পার্ট ওয়ান’। প্রকাশিত হবে গ্রন্থিক নামক একটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে।

বইটির লেখক আহমেদ সাব্বির সারাবাংলাকে বলেন, ‘নায়লা নাঈমের সঙ্গে বইটি নিয়ে কাজ করছি ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে। ২০১৯ এর জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা নানা তথ্য, উপাত্ত গুছিয়ে আনি। আমাদের টার্গেট ছিল ওই বছরের বই মেলায় প্রকাশের। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই বছর এবং এরপরের বছরগুলোতেও প্রকাশ করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিই এ বছর বই মেলার পর প্রকাশের। কিন্তু করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

 

কবে নাগাদ বইটি বাজারে পাওয়া যাবে? ‘আমাদের ইচ্ছে আছে এ মাসের শেষ নাগাদ ছোট একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটি প্রকাশ করার। কিন্তু ছোট একটা সমস্যার কারণে অল্প কিছুদিন দেরি হতে পারে। আপনারা জানেন নায়লা নাঈম একজন প্রাণীপ্রেমি। ওনার বাসায় উনি অনেকগুলো বিড়াল পালেন। ওটা নিয়ে সম্প্রতি একটু সমস্যা হয়েছে। ওই সমস্যা কাটিয়ে উঠলেই আমরা প্রকাশনার তারিখ জানাতে পারবো’—বলেন আহমেদ সাব্বির।

 

বইটিকে নায়লা নাঈমের জীবনী বলা হলেও পুরো জীবন ওঠে আসেনি। সাব্বির বলেন, পুরোপুরি জীবনীগ্রন্থ না বলে নায়লার ‘পার্শিয়াল বায়োগ্রাফি’ বলতে পারেন। এখানে বেশি উঠে এসেছে তার পেশাগত জীবন, ব্যক্তিজীবনের সম্পর্ক, অল্প একটু অতীত। আমাদের ইচ্ছে পার্ট টু ও থ্রি করতে পারলে বাকি সব তুলে আনার।

লেখক জানালেন, বইয়ের প্রথম পাতায় থাকবে নায়লা নাঈমের হাতে লেখা শুভেচ্ছা বার্তা। তার অনুমতি সাপেক্ষে রেকর্ডকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে লেখা বইটি মোট ২০টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। এতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে।

নায়লা নাঈম (জন্ম: ডিসেম্বর ১৪, ১৯৮৬) একজন বাংলাদেশি মডেল, অভিনেত্রী এবং দন্ত চিকিৎসক।[১][২] র‌্যাম্প মডেল হিসেবে শোবিজের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের শুরু, এবং পরর্তীতে তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত হন

নাঈম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।[২][৪] তার ছেলেবেলা কাটে ঢাকার বিভাগের মাদারীপুর জেলায়।[৫] তিনি ২০১২ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণ স্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।[১]

 

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে এক অনুষ্ঠানে নাঈম

নাঈম পেশায় একজন দন্তচিকিৎসক হলেও বিনোদন কর্মজীবনে তার পদার্পণ ঘটে মডেলিংয়ের মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে শোবিজ জগতের একজন র‌্যাম্প মডেল হিসেবে তার বিনোদন কর্মজীবনের শুরু। ২০০৯ সালে গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে অলোচনায় আসেন।[১] একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবে, পাশাপাশি একাধিক ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিঙাপনে কাজ করেছেন তিনি।[৬] এছাড়া তিনি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পোশাক পণ্যের মডেল হয়েছেন।[২] শোবিজ জগতে আসার কিছুদিনের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা আর্জন করেন।[৭] পরবর্তিতে তিনি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। এরপর ভাইকিংস সঙ্গীতদলের তন্ময় তানসেন পরিচালিত রান আউট[৮][৯] চলচ্চিত্রে একটি আইটেম গানে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে।[১০][১১][১২] পরবর্তীতে তিনি কাজী হায়াত পরিচালিত মারুফ টাকা ধরে না চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়ও তিনি ফুডপান্ডা প্রচারণায় অংশ নেন।[১৩]

আলোচনা

কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় পোশাক রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের জন্যে এবং ভার্চুয়াল জগতে খোলামেলা বেশ কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।[১][৩][১৪][১৫] বিভিন্ন সময় সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, “আমি পর্নো স্টার নই”।[১৬][১৭]

নায়লা নাঈমের জীবনী,Naila Nayem,ছিনতাইকারীর কবলে নায়লা নাঈম,মডেল নায়লা নাঈমের কিছু আলোচিত ছবি,আসছে নায়লা নাঈমের জীবনীগ্রন্থ, বাংলাদেশি ‘সানি লিয়ন’,নায়লা নাঈমের ‘বিতর্কিত’ জীবনী, না দেখলে বড় miss!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »