পতিতাবৃত্তিতে এবং সারোগেসিতে দরিদ্র মেয়ের জরায়ু ইনভেশানের টাইম আর টাকার পার্থক্য ছাড়া এই দুটোতে আর কোনও পার্থক্য নেই। 

সারোগেসি নিয়ে যেই না নিজের মত প্রকাশ করেছি, অমনি পঙ্গপালের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো তারা, যারা মেয়েদের শরীরকে পণ্য ভেবে অভ্যস্ত। মেয়েদের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদের যৌনাঙ্গ এবং জরায়ু কিনে বা ভাড়া নিয়ে দখল করতে বা হামলা করতে যাদের আপত্তি নেই। 

সারোগেসি নিয়ে বিতর্ক হোক। কেন আমার যুক্তি মানছো না বলো। তারা যুক্তি খন্ডন করবে না, তারা গালি দেবে। সবারই এক মত, একটি মেয়ের যদি খুব সন্তানের শখ, নিজে যে কোনও কারণেই হোক গর্ভবতী হতে পারছে না, সে তো সারোগেসির মাধ্যমে শখ পুরণ করতে পারছে। কাউকে দেখলাম না সারোগেট মেয়েটির কথা ভাবতে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু টাকার জন্য সে কেন বাধ্য হচ্ছে ন’মাস সাত দিন অন্যের সন্তানকে গর্ভে বহন করতে, জন্ম দান করতে! তার যদি যথেষ্ট টাকা পয়সা থাকতো, তাহলে কি সে এই কাজটি করতো? না, করতো না। তাহলে কী কারণে সারোগেসির প্রশংসা করা হচ্ছে! অবশ্য যে সমাজ পতিতাবৃত্তি টিকিয়ে রাখতে চায়, সে সমাজ তো সারোগেসি টিকিয়ে রাখতে চাইবেই। পতিতাবৃত্তিতে দরিদ্র মেয়ের যৌনাঙ্গ ইনভেড করা হয়, সারোগেসিতে দরিদ্র মেয়ের জরায়ু ইনভেড করা হয়। ইনভেশানের টাইম আর টাকার পার্থক্য ছাড়া এই দুটোতে আর কোনও পার্থক্য নেই।

কেউ কেউ বলছে, সারোগেসি সারোগেটের ”চয়েজ’। ঠিক যেমন বলে পতিতাবৃত্তি পতিতাদের ‘চয়েজ’। আসলে কোনওটিই চয়েজ নয়। এ দুটো কাজই বাধ্য হয়ে করে মেয়েরা, যখন ‘চয়েজ’ বলে কিছু থাকে না, তখন করে। তখন নিজের শরীরকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। যদিও শরীর বিক্রির জন্য নয়। শরীর ইনভেশানের জন্য নয়। পরিশ্রম বিক্রি করা যায়, শরীর নয়।

Taslima nasrin Priyanka

দারিদ্র ঘোচাতে চাইলে দারিদ্রের সুযোগ নিতে হয় না।

মিডিয়া বলছে প্রিয়াংকাকে কটাক্ষ করেছি। মোটেই তা করিনি। সাহসী মেয়ে প্রিয়াংকা। তাঁর প্রশংসাই করেছি বরাবর। পুরোনো একটি টুইট পেলাম আজ। এবার নতুন কী বলবে তারা?

আমাকে অপমান অপদস্থ করা যত সহজ, তত সহজ দুনিয়াতে আর কিছু নয়।

তসলিমার  ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »