পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে আমাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল: তসলিমা নাসরিন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ভারতের কিছু পত্রিকা কাল পরশু লিখেছে, আমি নাকি মৌলবাদিদের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছি। বাংলাদেশের মিডিয়া প্রায়ই লেখে, আমার নির্বাসন নাকি স্বেচ্ছা নির্বাসন। এসব জ্ঞানপাপীদের কী বলবো! এরা জেনে বুঝেই এই কাজটি করে।

আরও পড়ুন: সাকিবের মসজিদ বানানো নিয়ে তসলিমা নাসরিনের সমালোচনা

তসলিমা আরও লিখেন, রাজনীতিকদের এরা খুব ভালোবাসে বলে এই অন্যায়টি করতে, এই মিথ্যেটি বলতে তাদের লজ্জা হয় না। রাজনীতিকরা ভগবান, তসলিমা ‘কিছুই না’। সুতরাং একটি ‘কিছুই না’র জন্য সত্য কথা বলে রাজনীতিকদের অস্বস্তিতে ফেলার কোনও কারণ তারা দেখে না।

‘‘তারা কি জানে না তসলিমা ভয় পাওয়ার লোক নয়? জানে। তারা কি জানে না বাংলাদেশে মাথার মূল্য ঘোষণা করার পরও, মৌলবাদিদের তসলিমাবিরোধী তাণ্ডবের সময়ও আমি দেশে বাস করেছি, দেশ ত্যাগের দুঃস্বপ্নও আমি কোনওদিন দেখিনি? তারা কি জানে না সরকার আমাকে দেশ থেকে বের করেছে এবং ২৭ বছর দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না?’’

ভারতে নিজেকে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ তুলে তসলিমা লিখেন, তারা কি জানে না পশ্চিমবঙ্গের সরকার আমাকে গৃহবন্দি করেছিল এবং ছলে বলে কৌশলে রাজ্য থেকে বের করেছে? তারা কি জানে না ভারতে ফতোয়ার পর ফতোয়া জারি হওয়ার পরও আমি ভারত ত্যাগ করার কথা ভাবিনি? তারা কি জানে না দিল্লিতে গৃহবন্দি করে রেখে শেষ অবধি ভারতবর্ষ থেকে বিখ্যাত রাজনীতিকরা আমাকে বের করে ছেড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সারোগেসি সন্তানকে ‘রেডিমেড’ বলে বিতর্কে ইন্ধন, তসলিমাকে পাল্টা একহাত নেটপাড়ার

তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল ১৯৯৪-র মাঝামাঝি, তারপর সুইডেন-আমেরিকা-ফ্রান্স-কলকাতা – নানা দেশ, নানা শহর ঘুরে তার ঠিকানা এখন ভারত। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমা লিখেন, দু’দেশেই সরকার বদল হয়েছে, কিন্ত আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বদল হয়নি। তারা কি জানে না? তারা কি জানে না, মৌলবাদিদের হুঙ্কার করার শক্তি আছে, কিন্তু আমাকে দেশ বা রাজ্য থেকে বের করার শক্তি নেই? ওই শক্তি শুধু সরকার রাখে? জানে, জেনেও না জানার ভান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »