বিজ্ঞান বলছে এই মহাবিশ্ব একজন বুদ্ধিমান নকশাকারের সৃষ্টি

নিজের একটি গল্প দিয়ে শুরু করি। আমি একদিন গোসল করছিলাম। আমার সামনে পানির বালতি। এক হাতে মগ, আরেক হাতে সাবান। তো আমি মাথায় সাবান লাগাচ্ছিলাম, হঠাৎ হাত থেকে সাবান পিছলে গিয়ে একেবারে বালতিতে গিয়ে পড়ল।

আমি তখন এই চিন্তা করে কাঁদতে শুরু করলাম— আল্লাহ গো, আমি কত অসহায়। আমার মাথার ওপর কোটি কোটি বেশি গ্রহ-নক্ষত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, যদি এর কোনো আমার হাত সাবান পিছলে যাওয়ার মতো নিজ অক্ষপথ থেকে সরে যায়, তার পর যদি আমাদের ওপর ভেঙে পড়ে? এত এত গ্রহ-নক্ষত্র, যদি একটা নক্ষত্র ভেঙে সমুদ্রে পড়ে, তা হলে আমাদের কী হবে?

 

 

এই মহাবিশ্ব এমন চমৎকার নিয়ম ও কানুনে সাজানো, প্রত্যেকটা জিনিস এমনভাবে আটকানো, কোনো কিছু একটুও এদিক-ওদিক হতে পারে না। আমাদের চেয়ে লাখ লাখ বেশিবার একজন বিজ্ঞানীর মনে এই প্রশ্ন জাগে, তারা ভাবে এমন কেন হয়।

 

তো, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কার, যা ফ্রেড হয়েলের বই ‘দি ইন্টেলিজেন্ট ইউনিভার্স’-এ লেখা হয়েছে।

 

স্যার জেমস জিনস বলেন, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পেছনে এক গাণিতিক মন আছে। (দ্য মিস্টিরিয়াস ইউনিভার্স, পৃষ্ঠা ১২৩)।

 

ফ্রেড হয়েল বলেন, একটি ইন্টেলিজেন্ট মাইন্ড কাজ করছে। তিনি বইয়ের নামও রেখেছেন এই নামে। তো এখন বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা নতুন একপর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। নিউটনের সময়ে ভাবা হতো পদার্থ মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল উপাদান।

 

আইনস্টাইনের সময় নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, এর পর স্বীকৃত হয় মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল উপাদান এনার্জি বা শক্তি। এখন ফ্রেড হয়েলের জমানায় এসে বলা হচ্ছে— মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল উপাদান বুদ্ধিমত্তা। এবার দেখুন জ্ঞানের নদী কোন দিকে বয়ে যায়।

 

আস্তিকতা থেকে নাস্তিকতার দিকে নয় (নাউজু বিল্লাহ), বরং বিজ্ঞান খোদার ধারণাকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলছে। যখন বিজ্ঞান নিজেই আবিষ্কার করেছে যে এই মহাবিশ্ব একজন বুদ্ধিমানের নকশা করা। তা হলে নিশ্চয়ই একজন বুদ্ধিমান নকশাকারও আছেন। যখন বুদ্ধিমানের নকশা প্রমাণিত, তখন আপনা-আপনিই প্রমাণ হয়ে যায় বুদ্ধিমান নকশাকারের ব্যাপারটি। কর্ম যখন আছে, তার কর্তা অবশ্যই আছেন।

 

আল্লাহ ঠিক এই কথাটিই কুরআনে বলেছেন। সুরা হা-মিম সাজদায় ৫৩ নম্বর আয়াত বলা হয়েছে :

 

سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ

 

আমি অচিরেই আমার নিদর্শন দেখাব, সারা জগৎ ও মানুষের মধ্যে, যতক্ষণ না মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় এটিই হক (চূড়ান্ত সত্য)।

 

তো, বিজ্ঞান যতই গবেষণা করছে, মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে আল্লাহ তাআলাই বাণীই সত্য। এর পর একটি সময় আসবে যখন অস্বীকার করার কোনো কিছুই পাবে না।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »