বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ : মাধ্যমিকের শিক্ষক হেফাজতে

মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে পাঠদানকালে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করেন বিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞান শিক্ষক। এতে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ওই স্কুলে গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে।

এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসবর্জন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। সোমবার (২১ মার্চ) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আলাউদ্দিন মিয়া বরাবরে ছাত্ররা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিষয়টির সুরাহা না করে শিক্ষার্থীদের নীরব থাকতে বলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করার পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকগণ স্কুলের ছাত্রদের সাথে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন।

৭৩ বছর বয়সে মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট

শিক্ষার্থীরা সমন্বয়ের বিষয়টি মানতে অস্বীকার করে। মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেয়।

১০ম শ্রেণিতে পাঠদানকালে ইসলাম

সংবাদ পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে তার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্যকারী অত্র স্কুলের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। ছাত্রদের বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ানোর সময় বলেছেন, ‘হযরত মুহাম্মদ সা: জ্ঞানী লোক ছিলেন।

তিনি নিজেই কোরআন শরীফ লিখে মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন। বিজ্ঞান থেকে ইসলাম সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ নিজের মতো করে ইসলাম তৈরি করেছে। তোমরা ওসব ধর্ম বাদ দাও, নিজের জ্ঞানে হাঁটো।’ ওই শিক্ষকের এরূপ বক্তব্যের বিষয়টি শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইলে রেকর্ড করে রাখে। পরে ছাত্ররা প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের বিষয়টি অবহিত করে।

অবশেষে চাকরি পেলেন সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ফেলতে চাওয়া সেই আনিছ

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও অন্যান্য শিক্ষকগণ এটি অবগত হয়েও কৌশলে এড়িয়ে যান এবং ছাত্রদেরকে নীরব ভূমিকা পালন করতে বলেন। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো: আবু বকর ছিদ্দিকের নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ইন্সপেক্টর-তদন্ত রাজিব জানান, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »