বড় ভাইয়ের উৎসাহে বিসিএসের স্বপ্ন দেখেন নিরুপম

নিরুপম মজুমদার ৩৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। বাবা রেবতী মোহন মজুমদার, মা শৈবলনী মজুমদার।

নিরুপম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চরপার্বতী এস সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।বড়-ভাইয়ের-উৎসাহে-বিসিএসের-স্বপ্ন

সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মমিন উদ্দিন—

জাগো নিউজ: আপনার ছোটবেলা কেমন কেটেছে?
নিরুপম মজুমদার: শৈশব গ্রামের মতো সুন্দর। গ্রামের মতো সুন্দর বলার কারণ হলো—গ্রাম সবুজ, কোলাহলমুক্ত, প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। বাড়তি কোনো চাপ ছাড়াই পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের আদর, স্নেহে বন্ধুদের সাথে হেসে-খেলে কেটেছে।

জাগো নিউজ: পড়াশেনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
নিরুপম মজুমদার: না। তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। আমার বড় ভাই, বড় বোন, বাবা-মা, মামারা পড়াশোনার খেয়াল রাখতেন। বড় কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। দরিদ্রতা ছিল। কিন্তু সেটা পড়াশোনায় বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি।

ময়মনসিংহের প্রতাপশালী জমিদার যুগলকিশোর রায়চৌধুরী কি সিরাজউদ্দৌলার পুত্র ছিলেন!

জাগো নিউজ: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
নিরুপম মজুমদার: বিসিএসে মূলত আমার আসার কথা ছিল না। মানে সেরকম প্ল্যান ছিল না। আমার এইচএসসি থেকেই আমার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন আমার বড় ভাই ডা. অনুপম মজুমদার। মূলত তার উৎসাহেই আমার বিসিএসের স্বপ্ন দেখা।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
নিরুপম মজুমদার: আগেই বলেছি, আমার বড় ভাইয়ের উৎসাহে আমার বিসিএস যাত্রা। অনেকটা হুট করেই ডিসিশনটা নেওয়া। আমি তখন একটি প্রাইভেট জব করতাম। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তিন মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম। গ্রুপ স্টাডি করার সুযোগ আমার হয়নি। নোবিপ্রবির আমার এক বড় ভাইয়ের সাথে একসাথে পড়তাম। তিন মাস পড়াশোনায় নিয়মিত ছিলাম। সময় নষ্ট করিনি একদমই। ফল আশানুরূপ হলো। রিটেনের জন্য সময় পাওয়া গিয়েছিল আড়াই মাসের মতো। সময়টা কাজে লাগিয়েছিলাম। আর ভাইভার প্রস্তুতি খুব বেশি ভালো না থাকলেও ভাগ্য আমার অনুকূলে ছিল। প্রশ্ন আমার ধরাছোঁয়ার ভেতরেই ছিল।

জাগো নিউজ: কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি?
নিরুপম মজুমদার: হ্যাঁ, অনুপ্রেরণা অবশ্যই পেয়েছি। আমার সব অনুপ্রেরণা আমার মা, আমার বড় ভাই।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
নিরুপম মজুমদার: আমি মনে করি, কাজ করার একটি সুযোগ আমি পেয়েছি। ঠিক যেমনটা আমরা করতে চাই। আমার সাধ্যমত সঠিকভাবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চাই। পড়াশোনাটা আরেকটু এগিয়ে নিতে চাই।

জাগো নিউজ: সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে আপনার ভূমিকা কী?
নিরুপম মজুমদার: সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে আমার তথা মাঠ প্রশাসনের সব সহকারী কমিশনারের ভূমিকা কাছাকাছি। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »