মাদকাসক্তির অভিশাপ ও তার প্রতিকার (প্রবন্ধ রচনা) | মাদকাসক্তি প্রতিরোধের উপায় 6টি রচনা

এছাড়াও আরো যে বিষয় সম্পর্কে লিখতে পারবে:

👉সর্বনাশা মাদকাসক্তি

👉মাদকাসক্তির অপকার ও প্রতিকার

👉মাদকাসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ

👉মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার

👉মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার

উপরোক্ত বিষয় সংক্রান্ত 5টি রচনা নিম্নে দেওয়া হলো-

রচনা নম্বার→১

[সংকেত: ভূমিকা; মাদক দ্রব্যের প্রকারভেদ; মাদক দ্রব্যের অপকার; মাদকাসক্তির কারণ; মাদকাসক্তির প্রতিকার; উপসংহার। ]

আরও পড়তে পারেনশেখ রাসেল এর জীবন কাহিনী জেনে নিন। sheikh rasel biography

ভূমিকাঃ

বর্তমান যুগে মাদকাসক্তি বিশ্বের প্রায় সব দেশের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিশেষতঃ তরুণ – সমাজ মাদকাসক্তির কবলে পড়ে তিলে তিলে তাদের জীবন নিঃশেষ করে ফেলছে । এর সাথে সাথে সমাজে নানা অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে ।

আরো পাঁচটি রচনা মাদকাসক্তি

মাদক দ্রব্যের প্রকারভেদঃ

মাদক দ্রব্য অতীতকাল হতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । কিন্তু এখনকার মত তা তেমন সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করেনি । অতীতে কিছুসংখ্যক লােক অতি গােপনে তা ব্যবহার করত । মাদকদ্রব্য বলতে নেশা সৃষ্টিকারী কতকগুলাে দ্রব্য বুঝায় , যেমন- মদ , গাঁজা , ভাং , আফিম , চরস , মরফিন , হেরােইন , মারিজুয়ানা , কোকেন , হাসিস , পেথেডিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি । এগুলাের মধ্যে মদ পাশ্চাত্য দেশে পানীয় হিসেবে ব্যাপকভবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং তা গ্রহণে সেসব দেশে কোন বাধা নেই । ইদানিং যে মাদকদ্রব্যটি আমাদের দেশে তরুণ সমাজকে সর্বাধিক আকৃষ্ট করেছে , তার নাম হেরােইন । এর দাম অধিক এবং ব্যবহারও ক্রমান্বয়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

মাদক দ্রব্যের অপকারঃ

মাদকদ্রব্য নেশা সৃষ্টি করে । তাই এতে একবার অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তা হতে রেহাই পাওয়া বড়ই কঠিন । মাদক দ্রব্যের মধ্যে হেরােইন একটি মারাত্মক নেশা । হেরােইনে আসক্ত ব্যক্তি নেশার সময় তা না পেলে অস্থির হয়ে পড়ে । মাদকদ্রব্য স্নায়ুবৈকল্য ঘটায় , মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে , আলসার , ক্যানসার ইত্যাদি মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি করে । এটা পাওয়ার জন্য নেশাসক্ত ব্যক্তি অর্থ সংগ্রহের জন্য যে কোন হীন কাজ করতে দ্বিধাবােধ করে না । মাদকদ্রব্য মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটায় এবং পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় । মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা সাধারণতঃ কুচরিত্র লােকদের সাথে মেলামেশা করে এবং অপরাধী চক্র গড়ে তােলে । তারা চুরি , ডাকাতি , ছিনতাই , হাইজ্যাক ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয় । ফলে বিপথগামী ব্যক্তিরা সমাজ , দেশ ও জাতির পক্ষে একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ।

 

মাদকাসক্তির কারণঃ

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও মানসিক অশান্তি মাদকাসক্তির মূল কারণ । তবে সাধারণতঃ দুটি কারণে মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে । প্রথমতঃ অনেকে নতুনত্বের মােহে তা গ্রহণ করে । দ্বিতীয়ঃ কেউ কেউ হতাশ হতে সাময়িক মুক্তিলাভের আশায় তা গ্রহণ করে এবং পরে এতে আসক্ত হয়ে পড়ে । তাছাড়া , পারিবারিক অশান্তি , বেকারত্ব , দারিদ্র্য ইত্যাদি কারণেও অনেকে মাদক দ্রব্য গ্রহণ করে মনের দুঃখ – জ্বালা সাময়িকভাবে ভুলতে চেষ্টা করে ।

 

মাদকাসক্তির প্রতিকারঃ

মাদকাসক্তির কবল হতে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন । স্বেচ্ছায় এটা বর্জন বা ত্যাগ করাই হল এটা হতে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় । আমাদের দেশে সামাজিক অস্থিরতার মূলে যেসব সমস্যা বিদ্যমান সেগুলাের প্রতিকার করে মাদকাসক্তির কবল হতে দেশকে রক্ষা করা যেতে পারে । তাছাড়া , উপযুক্ত শিক্ষা , সৎ সংগ , নির্দোষ আমােদ – প্রমােদের ব্যবস্থা , বেকারত্ব দূরীকরণ , ধর্মীয় শিক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে এর প্রতিকার করা যেতে পারে । তবে অভিভাবক , সরকার , সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে এটা প্রতিরােধে এগিয়ে আসতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে । আমাদের দেশে মাদকদ্রব্য বিক্রয় আইনত নিষিদ্ধ , কিন্তু এটা চোরাপথে আমদানি হয়ে অধিক লাভে বিক্রয় হয় । এটাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে ।

 

উপসংহারঃ

মাদকাসক্তি বর্তমান বিশ্বের সর্বত্রই একটি প্রধান সমস্যা । এটা আমাদের দেশের তরুণ সমাজকে গ্রাস করেছে এবং অনেককে ইতোমধ্যে বিপথগামী করেছে । কাজেই অবিলম্বে এর প্রতিকারের প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক ।

ভালো কিছু ভালো ফলাফল প্রাপ্তির সহায়ক তাই গুণ ও মানের প্রশ্নে আমরা সর্বদা সচেতন

রচনা নম্বার→২

[সংকেত :ভমিকা; বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য; মাদকের উৎস; মাদকাসক্তের পরিসংখ্যান; মাদকাসক্তির কারণ ; মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও কুলে; দেশে ও বিদেশে মাদকবিরােধী অভিযান; মাদকাসক্তির প্রতিকার; উপসংহার 

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার (২০ পয়েন্ট)

ভূমিকা :

মাদকাসক্তি আজকের বিশ্বের এক নম্বর সমস্যা । উন্নত – উন্নয়নশীল – অনুন্নত এবং ধনী – দরিদ্র নির্বিশেষে সব দেশই আজ এ সমস্যায় বিপর্যস্ত । মাদকাসক্তির মরণ ছােবলে আমাদের নতুন প্রজন্ম , আমাদের সম্ভাবনাময় রুণ সমাজ আজ বিপথগামী । মাদকাসক্তির নীল ছোবলে সামাজিক প্রগতি হচ্ছে বিপন্ন । আজকের দিনে বিশ্বসভ্যতার জন্যে সবচেয়ে বড় শত্রু বলে চিহ্নিত হচ্ছে মাদকদ্রব্য ।

 

বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য :

পৃথিবীতে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার সুদূর অতীতকাল থেকেই চলে আসছে । মাদকদ্রব্য বলতে বােঝায় নেশার দ্রব্য । যেমন — গাঁজা , ভাং , আফিম , চরস , মরফিন , হাসিস , মারিজুয়ানা , এল , এস , ডি , ক্যানাবিস , কোকেন , হেরােইন ইত্যাদি । গাজা , ভাং , আফিম প্রভৃতি মাদকদ্রব্য আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছে । আমাদের দেশে অনেক প্রয়ােজনীয় ওষুধ মাদকদ্রব্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে । ঘুমের ওষুধ ও অনুভূতি শিথিলকারক ওষুধ যেমন – সিডাকসিন , ইউনেকটিন , প্যাথেড্রিন প্রভৃতি ব্যাপকভাবে মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । ভারতে উৎপাদিত কাশির সিরাপ ফেনসিডিল বর্তমানে সবচেয়ে আলােচিত মাদকদ্রব্য ।

 

মাদকের উংস :

বিশ্বের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট এলাকা মাদকের উৎস হিসেবে চিহ্নিত । গােল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল , গােল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গােল্ডেন ওয়েজ নামক তিনটি এলাকায় বিপুল পরিমাণ হেরােইন ও আফিম উৎপাদিত হয় । উক্ত এলাকাগুলােতে উৎপাদিত ‘ পপি ফুল থেকে তৈরি হয় ভায়াবহ নেশাদ্রব্য আফিম । থাইল্যান্ড , লাওস ও মায়ানমার জুড়ে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকা । পাকিস্তান , আফগানিস্তান , ইরান ও তুরস্ক জুড়ে রয়েছে ‘ পপি ’ উৎপাদনকারী গােল্ডেন ক্রিসেন্ট এলাকা । গােল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় আরেক মাদক উৎপাদনকারী এলাকা নারকোটিক্স বিশেষজ্ঞরা খুঁজে পেয়েছেন , যার নাম গােল্ডেন ওয়েজ । এ অঞ্চলটি নেপাল – ভারত সীমান্তে অবস্থিত । তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র , কলম্বিয়া , ব্রাজিল , বলিভিয়া , থাইল্যান্ড , মেক্সিকো , ভারত , ঘানা , নাইজেরিয়া , পেরু , প্যারাগুয়ে , দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও অনেক দেশে নানপ্রকার মাদকদ্রব্য উৎপাদিত হচ্ছে । এই মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে পাচারের জন্যে বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠেছে ড্রাগ ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক ।

 

মাদকাসক্তে পরিসংখ্যান :

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে , বিশ্বের প্রায় ৫০/৬০ কোটি মানুষ সর্বনাশা মাদকের নেশায় আক্রান্ত । বাংলাদেশে প্রায় বিশ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত বলে সম্প্রতি প্রণীত এক জরিপে বলা হয়েছে । তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা , বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি । বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মধ্যে মাদক সেবনের মাত্রা বেশি । অঞ্চল হিসেবে সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত মানুষ রয়েছে । তাছাড়া পুরান ঢাকা , টঙ্গী , নারায়ণগঞ্জ , নরসিংদীর মতাে শিল্পশহরগুলােতেও মাদকের প্রকোপ উল্লেখযােগ্য ।

 

মাদকাসক্তির কারণ :

মানুষের নেশাগ্রততার পেছনে প্রধানত দুটো কারণ থাকে । একটি নতুনত্বের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ এবং অন্যটি হতাশা । এছাড়া আছে পারিবারিক অশান্তি , সঙ্গদোষ , ধর্মবােধের অনুপস্থিতি ইত্যাদি । নতুনত্বের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণবশত শখ করে একবার নেশার আমেজ পেলে পরে তা থেকে আর নিষ্কৃতি পাওয়া যায় না । জীবনের চারপাশে দারিদ্র্য , বেকারত্ব ও দুর্নীতি প্রভৃতি সম্ভাবনাময় তরুণের মনে এমন অস্থিরতার জন্ম দেয় , যা থেকে মুক্তির জন্যে সে হাত বাড়ায় নেশার দিকে । মােটকথা , মাদকাসক্তি সামাজিক অসুস্থতার বেদনাময় প্রকাশ । আজকাল পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের বন্ধন শিথিল হওয়ার কারণে উচ্চবিত্ত পরিবারে মাদকের সংক্রমণ ঘটছে ।

 

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও কুফল :

বিজ্ঞানের অভাবিত সাফল্য মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে । এর ফলে তৈরি হয়েছে এমন সব মাদকদ্রব্য যা মানুষকে আকৃষ্ট করে খুব সহজেই কিন্তু ছাড়তে চায় না কিছুতেই । এর মারাত্মক ক্রিয়া আসক্ত ব্যক্তিকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে । নেশার দ্রব্যগুলাে ক্যানসার , যক্ষ্মা , আলসার , পঙ্গুত্বসহ নানা দুরারােগ্য রােগ সৃষ্টি করে অকালমৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে ।

আজকাল অনেক বাবা – মা তাদের সন্তানদের মাদকাসক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশে সােপর্দ করছেন । এ থেকে নেশাগ্রস্তদের নৈতিক অবক্ষয়ের করুণ অবস্থাটি উপলব্ধি করা যায় । মাদকাসক্ত ব্যক্তি নির্বাসিত হয় এক ভয়ঙ্কর অপরাধ জগতে । নেশার শিকার হয়ে সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে । মাদকদ্রব্য মানুষের দেহের কর্মপ্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে । মাদকাসক্তির ফলে মানুষের ইচ্ছাশক্তি খর্ব হয় । এতে তার নৈতিক অধঃপতন ঘটে এবং নেশার অর্থ যােগাতে যেকোনাে হীন কাজ করতেও সে দ্বিধা করে না । মাদকাসক্তি পারিবারিক জীবনে সীমাহীন অশান্তি ডেকে আনে ।

 

দেশে ও বিদেশে মাদকবিরােধী অভিযান :

সারাবিশ্বে মাদকবিরােধী অভিযান চলছে । জল – স্থল ও আকাশপথে মাদকদ্রব্য পরিবহণ রোধ করার জন্যে প্রতিটি দেশ সচেষ্ট । যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বের ২৩ টি দেশ মাদকবিরােধী আন্দোলনে অংশ নেয় । সৌদি আরব , ইরান , পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে প্রায়শই মাদক – অপরাধের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয় । ব্রাজিল ও কলম্বিয়া সরকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সসৈন্যে যুদ্ধ করেছে । বাংলাদেশেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ‘ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে ।

 

মাদকাসক্তির প্রতিকার :

মাদকাসক্তির হাত থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্যে সর্বাগ্রে দরকার সামাজিক সচেতনতা । প্রথমত , এর বিরুদ্ধে পরিবার থেকে আরম্ভ করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরােধ গড়ে তুলতে হবে । দ্বিতীয়ত , মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে জ্ঞানদানের জন্যে বিষয়টিকে পাঠ্যসুচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে । তৃতীয়ত , তরুণ সমাজকে সুস্থ বিনােদনের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে । এজন্যে খেলাধুলাসহ সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে হবে । চতুর্থত , তাদের মনে ধর্মীয় চেতনা সৃষ্টি করতে হবে । পঞ্চমত , কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার প্রতি দুর্ব্যবহার না করে তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আসক্তির কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং স্নেহ , মায়া – মমতা দিয়ে তাকে কাছে টেনে নিতে হবে । সবশেষে , মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে । বিশেষ করে সরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় করে তুলতে হবে । এ বিভাগের কর্মকর্তা – কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতির আশ্রয় নিতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে ।

 

উপসংহার :

ইউরােপ ও আমেরিকার সীমানা পেরিয়ে মাদকদ্রব্যের করালগ্রাস এখন ভারত , মিশর , নাইজেরিয়াসহ এশিয়া ও আফ্রিকার নানা দেশে বিস্তার লাভ করেছে । বাংলাদেশও আজ মাদকের কবলে পড়েছে । মাদকমুক্ত দেশ গড়তে না পারলে আগামী প্রজন্মের জন্যে থাকবে এক দুর্বিষহ ভবিষ্যৎ ।

আরো পড়ুনঃ

ভূমিকা:

মাদকাসক্তি নামক এই ছোট অথচ ভয়ংকর শব্দটি বর্তমান বিশ্বে বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজের জন্য আরো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদিকাল থেকেই মানুষ এই নেশার জালে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এই নেশারই নাম মাদকাসক্তি। মাদকদ্রব্য এমন একটী দ্রব্য, যা সেবন করলে একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষে পরিণত হয়ে যেতে পারে এবন তার স্থায়িত্ব যতক্ষন পর্যন্ত ঈঊ দ্রব্যের নেশা দেশের মধ্যে থাকে। তবু মানুষ যুগ যুগ ধরে এই নেশায় আক্রান্ত। এই নেশায় আক্রান্ত ব্যক্তি সহজে নেশা কাটিয়ে উঠতে পারে না। তার জীবনে নেমে আসে দুর্দিন এবন নেমে আসে অন্ধকার।

মাদকাসক্তি কী:

বিভিন্ন নেশার দ্রব্য গ্রহণ করে নেশা করার প্রবণতাই মাদকাসক্তি। নেশা ক্ষণিকের জন্য মনের যন্ত্রণা লাঘব করে, সকল বেদনা থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে, নেশার ফলে বাস্তব চৈতন্যকে অবলুপ্ত করে তাকে নিয়ে যায় এক স্বতন্ত্র জগতে এসব বিশ্বাস থেকেই মাদকাসক্তির বিকাশ। মাদকদ্রব্য  হিসেবে বহু উপকরণ রয়েছে। যেমন ; মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম, মারিজুয়ানা, চরস, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি। সাম্প্রতিককালে হিরোয়িনের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবনের হতাশা, ব্যর্থতা, বিষাদ, কৌতুহল এসব থেকেই নেশা গ্রহণের সূত্রপাত ঘটে এবং জীবনের অস্থিরতা, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সঙ্গদোষ, কালো টাকার উত্তাপ ও ব্যয়ের অপরিচ্ছন্ন পন্থা যুবসমাজের বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক:

মাদকদ্রব্য গ্রহণের আসক্তি সুপাচীন কাল থেকে প্রচলিত থেকে যুগে যুগে সমস্যার সৃষ্টি করছে। এক সময় চীন দেশের লোকজন আফিম খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিককালে মাদকাসক্তির প্রভাবে বহুলোকের বিশেষত যুবসমাজের ধ্বংস নেমে আসছে, শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ অবক্ষয়ের। বিভিন্ন রকম দৈহিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে দেহের অক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মাদকাসক্তির ফলে মানসিক ভারসাম্যহীন্যতার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন চেতনা নাশক মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ফলে মানসিক আচ্ছনতা দেহের মাংসপেশির কম্পন ও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। ফলে মাদকাসক্তির পরিণাম হিসেবে ব্যক্তিজীবনে আসে ব্যর্থতা এবং জাতীয় জীবনে আসে সর্বনাশ।

মাদকাসক্তির প্রভাব:

সারা বিশ্ব জুড়ে মাদকাশক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক উন্নত দেশে মাদকাসক্তির ব্যাপকতা জাতির জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। এই সর্বনাশা নেশা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকদ্রব্যের প্রসারের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সর্বনাম নেশায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তরুণ সমাজের মধ্যে এর সম্প্রসারণের প্রবণতা খুব বেশি। শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা, বেকারত্বের অভিশাপ, দারিদ্রের গ্রাস এসব কারণে যুবসমাজ ক্রমেই নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে। নেশাগ্রস্তদের নৈতিক মূল্যবোধের অভাবের কারণে তারা অন্যায় ও অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের দাম বেশি হওয়ায় নেশাগ্রস্তরা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনে তৎপর হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহারের প্রেক্ষিতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সহজেই ধারণ করা যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার:

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর ন্যায় আমাদের দেশেও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের যুবসমাজ মারাত্মকভাবে মাদকাসক্তির শিকার বাংলাদেশে কী পরিমাণ মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হয় এবং কত লোক মাদকাসক্ত তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো নেই। তবে এদেশে মোট জনসংখ্যার ১৭ ভাগ মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে বলে বিশেষজ্ঞ ধারণা। দেশে ৩৫০টি বৈধ গাজার দোকান আছে। দর্শনার রয়েছে সরকার অনুমোদিত একমাত্র মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু এন্ড কোম্পানি। বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেশীয় মদ প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন ও বিক্রি হয়।

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার:

আজকাল  মাদকদ্রব্য বিভিন্নভাবে সেবন বা গ্রহণ করা হয়। এক ধরণের মাদক আছে যা নাকে টানা হয়। আবার কোনো দ্রব্য ধোয়ার সাথে পান করা হয়। কোনটি গিলে খাওয়া হয়। আবার কোনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষের মতো মাদক সেবনকারী রয়েছে এবং এর সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে। বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাও নেশায় আক্রান্ত হছে।

মাদকদ্রব্যের ধরণ বা প্রকার:

বর্তমানে বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য চালু রয়েছে। মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম ইত্যাদি অনেক প্রাচীনকালের। বর্তমানের হেরোইন, মারিজুয়ানা, এল.এস.ডি, হাসিস, কোকেন, প্যাথিড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি বেশি প্রচলিত। এ পর্যন্ত যেসব মাদকদ্রব্যের কথা জানা গেছে তার মধ্যে নারকাটকসই প্রধান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে হেরোইন সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্য। অন্যান্য মাদকদ্রব্যের চেয়ে এর দাম তুলনামূলক বেশি এবং নেশায় আক্রান্ত করে গভীরভাবে।

মাদক সেবনের কারণ:

সাময়িক জীবনের প্রতি বিমুখতা ও নেতিবাচক মনোভাব থেকেই মাদকাসক্তির জন্ম। অভ্যাস থেকে আসক্তি, ধূমপান একদিন পরিণত হয়। হেরোইন আসক্তিতে ধনতান্ত্রিক সমাজে ও অর্থনীতিতে ব্যক্তির ভোগের উপকরণ অবাধ ও প্রচুর। বর্তমানে সিনেমা ও টেলিভিশনে যেসব অশ্লীল নৃত্য, ছবি, কাহিনী ইত্যাদি দেখানো হচ্ছে সেসব অনুকরণ করতে গিয়ে তরুণ সমাজ তাদের নৈতিক অধঃপতন ডেকে আনছে। তাছাড়া আবার অনেকসময় অস্থিরতা, কুচিন্তা, অভাব অনটন, পারিবারিক কলহের কারণে তরুণ সমাজ এই মোহের জালে আচ্ছন্ন হয়।

মাদকের উৎসভূমি:

গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল (লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড), গোল্ডেণ ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান)। গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস। মাদকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো আফিম। পপি ফুলের নির্যাস থেলে কৃষকরা তৈরি করেন কাচা আফিম। তা থেকে হয় মারফিন বেস। আফিম থেকেই তৈরি হয় সর্বনাশা হেরোইন। প্রাপ্ত তথ্যমতে যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, জ্যামাইকা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ের, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশে মারিজুয়ানা উৎপন্ন হয়। হাশিস উৎপন্ন করার জন্য জ্যামাইকা, মরক্কো, জর্দান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত ও নেপাল সমধিক পরিচিত।

মাদকদ্রব্য চোরাচালান:

মাদকাসক্তির ব্যক্তিগত দিক ছাড়াও এর আরও একটি ব্যবসায়িক দিক আছে যা বিশাল অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত। মাদকদ্রব্য সাধারণত পাকিস্তান ও ভারত থেকে পাচার হয়ে যায় পশ্চিমে ইউরোপে। বিশেষ করে গ্রেট ব্রিটেন, পসচিম জার্মানি, ইতালি ও সুইজারল্যান্ড। শ্রীলঙ্কাকে ব্যবহার করা হয় চোরাচালানের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের মাঝামাঝি হওয়ার ফলে বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বব্যাপী মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রতিক্রিয়া :

মাদকের ভয়াবহ বিসার গোটা বিশ্বের জন্যে আজ উদ্বেগজনক। আজ যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ জীবনে এটা এক নম্বর সমস্যা। প্রায় ৪ কোটি আমেরিকান নর-নারী কোকেন সেবন করে, কমপক্ষে ২ কোটি মারিজুয়ানা সেবন করে। ১২ লক্ষ হেরোইনসেবী। এই অবস্থা প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশগুলোতেও রয়েছে। কিন্তু সমস্যা এখন শুধু ইউরোপ আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই অশুভ ছায়া এশিয়া-আফ্রিকার দেশে দেশে ইতোমধ্যেই আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিণাম:

এদের খপ্পরে পড়ে নেশাগ্রস্ত দিকভ্রান্ত আমাদের তরুণ সমাজ। তারা হয়ে উঠে এদের বাহন ও পসচিমের গিনিপিগ। একজন তরুণের স্বপ্নভরা কৈশোরের ইতিবাচক বিশ্বাসগুলো ভাঙছে দিন-রাত তার পাশে অরাজকতা বৈষম্য-শোষন। বর্তমানে তরুণরা আস্থা হারাচ্ছে জীবনে, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাস থাকছে না, আর্থিক কাঠামো এমনকি ধর্মীয় বিশ্বাসেরও শ্রদ্ধা নেই। ব্যবসায়িক স্বার্থে হেরোইন আসছে নানা পথে নানা মাধ্যমে ব্যবহার করছে স্বপ্নভাঙা মেরুদন্ডহীন যুবক সমাজ। মধ্যবিত্ত ও সচেতন সমাজই নেশার শিকার, এদের স্বপ্ন ও প্রাপ্তির মধ্যে আসমান জমিন তফাত। পরিণতি, উর্বরা মেধার অপমৃত্যু, উজ্জ্বল পরমায়ুর অবক্ষয়।

বিশ্বজুড়ে মাদক-বিরোধী আন্দোলন বনাম বাংলাদেশ:

বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম মাদকপ্রতিরোধ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে বিশ্বর ২৩টি রাষ্ট্র মাদক প্রতিরোধ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগদান করে। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইরানে ৩১ জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকার তেজগাওয়ে স্থাপিত মাদক চিকিৎসা কেন্দ্র কাজ করছে। খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও তিনটি মাদক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

মাদকের নেশা দ্রুত প্রসারের কারণ:

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ক্ষেত্রে হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে সাময়িক শান্তিলাভের আশা থেকেই এই মারাত্মক নেশা ক্রমবিস্তার লাভ করছে। পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে, অনেক দেশে বিপথগামী মানুষ ও বহুজাতিক সংস্থা উৎকট অর্থলালসায় বেছে নিয়েছে রমরমা মাদক ব্যবসায়ের পথ। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে বিভিন্ন দেশের মাফিয়া চক্র। মাদকের ঐ কারবারিরা সারা বিশ্বে তাদের ব্যবসায়িক ও হীনস্বার্থ রক্ষায় এই নেশা পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধ চিন্তা:

বিশ্বজুড়ে যে মাদকবিষ ছড়িয়ে পড়েছে তার থাবা থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন। সমাজসেবীরা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশে দেশে নানা সংস্থা ও সংগঠণ মাদকবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। বেতার, টিভি, সংবাদপত্র ইত্যাদি গণমাধ্যম মাদকবিরোধী জনমত গঠণে সক্রিয় হয়েছে।

সমাজের নেতাদের কর্তব্য:

মাদকদ্রব্যের প্রচার ও প্রসার রোধে সমাজের নেতারা নিজ নিজ স্থান থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেন। কোনো এলাকার নেতা বা সর্দার যদি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, তবে সে এলাকায় মাদকের অবাধ ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।

আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা:

সবচ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব হচ্ছে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থা তথা সরকারের। কেননা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অপরাধ প্রবণতা দমন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান দ্বায়িত্ব। শক্ত হাতে মাদকাসক্তির মতো অন্যতম অপরাধ দমন করতে সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তব্য:

বিশ্বের সকল দেশের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত। এর উৎপাদন, বিপনন ও পাচার রোধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে সচেতন হতে হবে। তাহলে এ ব্যবস্থার উত্তোরণ অনেকাংশে সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। এজন্য সকল দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সজাগ থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।

প্রতিকার:

মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণাম থেকে বর্তমান সময় ও মানুষকে বাঁচাতে হলে এই ভয়াল ব্যাধির বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বেকারত্বের অভিশাপ মানুষকে মাদকাসক্ত করে।, তরুণদের কর্মসংস্থান করলে তারা কর্মময় জীবনযাপন করবে। শিক্ষার যথার্থ প্রসার ঘটলে, মানুষের নৈতিক জ্ঞান অর্জিত হলে নেশাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা কমবে। সবচেয়ে বড় কথা, মাদকাসক্তদের যেমন নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা জরুরি তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি মাদকব্যবসায়ীদের আইনানুকভাবে শাস্তি দেওয়া।  বাংলাদেশে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা চোরাকারবারীর উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে এমন তথ্য আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আরও পড়তে পারেন:  Top Ten Motivational Speaker Biography || বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০জন মোটিভেশনাল স্পিকারের জীবনী

উপসংহার:

মাদকের ব্যবহার এখন জাতীয় সমস্যারূপেই বিবেচিত হচ্ছে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ী, ক্ষমতালোভী, রাজনীতিবিদ, দুর্নীতিবাজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এরা প্রত্যেকেই এই ভয়াবহ অবস্থার জন দায়ী। সবাই মিলে সংগঠিতভাবে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নইলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বজার রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেইদিন মাদকবিরোধী আন্দোলনে সফল হবো যেদিন সকলে মিলে সুস্থ জীবনবোধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে গেয়ে উঠতে পারব জোড়ালো মাদকবিরোধী সংগীত-

“প্যাথিড্রিন, হেরোইন, নেশার আস্তানা,
দুমড়ে মুচড়ে দিতে ধরো হাতখানা
চলো প্রতিরোধ গড়ে তুলি প্রতিবিশ্বের প্রান্তর জুড়ে
মরণ আসে যদি তবু  পিছু ফেরোনা।”

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা (৮৩০ শব্দ) |

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • মাদকের আদি উৎস
  • মাদকদ্রব্যের প্রকারভেদ
  • মাদক চোরাচালান
  • মাদকদ্রব্যের ব্যবহার
  • মাদকাসক্তির কারণ
  • বাংলাদেশে মাদকের আগ্রাসন
  • মাদকাসক্তির ভয়াবহতা
  • মাদকাসক্তির প্রতিকার
  • উপসংহার

আরো পাঁচটি রচনা মাদকাসক্তি

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা

ভূমিকা:

মাদকাসক্তি আমাদের সমাজের ভয়াবহ একটি সমস্যা। অবশ্য সমস্যা না বলে একে সংকট বলাই শ্রেয়; কারণ কিছু কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একজন মানুষ নিজেকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে। আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তবে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়। একটি জাতির উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করে তরুণ সমাজ। কিন্তু মাদক তরুণসমাজের সেই অদম্য কর্মপ্রেরণাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে সে নিজেকে যেমন ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়, তেমনি দেশকেও মহাবিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দেয়। এই তরুণরাই তখন হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে বিপথগামী সম্প্রদায়।

মাদকের আদি উৎস:

মাদক ও এর নেশার ইতিহাস বেশ প্রাচীন হলেও তার একটা সীমারেখা ছিল । মদ, গাঁজা, আফিম, চরস
বা তামাকের কথা বহু আগে থেকেই মানবসমাজে প্রচলিত ছিল। উনিশ শতকের মধ্যভাগে বেদনানাশক ওষুধ হিসেবে মাদকের ব্যবহার শুরু হয় যাকে ইংরেজিতে ড্রাগ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে সৈনিকদের ব্যথার উপশম হিসেবে ড্রাগের ব্যবহার হলেও হতাশা কাটাতেও তারা ড্রাগ ব্যবহার করত। এরপর থেকেই কলম্বিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর ইত্যাদি দেশে নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ড্রাগের ব্যবহার শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

মাদকদ্রব্যের প্রকারভেদ:

বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি আধুনিক সময়ে নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের উদ্ভাবন ও ব্যবহার লক্ষ করা গেছে । হেরােইন, প্যাথেড্রিন, এলএসডি, মারিজুয়ানা, কোকেন, হাসিস, প্রভৃতি আধুনিককালের মাদকদ্রব্য; তবে এর মধ্যে হেরােইন ও কোকেন বেশ দামি। আমাদের দেশের যুবসমাজ সচরাচর যে মাদকদ্রব্যগুলাে ব্যবহার করে সেগুলাে হলাে— সিডাকসিন, ইনােকটিন, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল,ডেক্সপােটেন, গাঁজা ইত্যাদি। তবে এ সবকিছুর ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে অত্যাধুনিক এক মাদক— ইয়াবা’ যার নাম ।

মাদক চোরাচালান:

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে মাদক চোরাচালান হয়। সীমান্তে স্থল বা জলপথে এবং আকাশ পথে বিশ্বব্যাপী এক বৃহৎ চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে যার পেছনে রয়েছে বিরাট এক সিন্ডিকেট। কিছুকাল আগেও মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম নিয়ে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের স্বর্ণভূমি’ বা ‘গােল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল’ । তবে ভিয়েতনামে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই নেটওয়ার্ক ভেঙে যায়। এর কিছুদিন পরেই চোরাচালানকারীরা ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে গড়ে তােলে ড্রাগ পাচারের নতুন ভিত্তিভূমি ‘গােল্ডন ক্রিসেন্ট’।

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার:

মানুষ নিজেকে অপ্রকৃতিস্থ করতে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে। মাদকের ব্যবহার করে সে কল্পনার এক জগতে কিছুসময়ের জন্য বিচরণ করে। এক্ষেত্রে মাদক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে যেমন— ধূমপান, ইনহেল বা শ্বাসের মাধ্যমে, জিহ্বার নিচে গ্রহণের মাধ্যমে, সরাসরি সেবনের মাধ্যমে, স্কিন পপিং ও মেইন লাইনিং-এর মাধ্যমে। তবে যেভাবেই গ্রহণ করুক না কেন তাদের উদ্দেশ্য একটাই— নেশায় উন্মত্ত হওয়া। প্রথমে কৌতূহলের বশে অনেকেই নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে। কিন্তু আস্তে আস্তে তাতে অভ্যস্থ হয়ে ভয়াবহ এক সর্বনাশের পথে এগিয়ে যায়।

মাদকাসক্তির কারণ:

মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ ব্যক্তিজীবনের হতাশা । মানুষ যখন জীবন সম্পর্কে অনেক বেশি হতাশ হয়ে
পড়ে, তখন সে মাদকদ্রব্যের আশ্রয় নেয় । হতাশা সাধারণ তরুণদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, তাই তাদের মাদক গ্রহণের হারও অনেক বেশি। তাছাড়া অসৎসঙ্গে লিপ্ত হয়েও অনেকেই মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারে পারিবারিক অশান্তি অনেক বেশি সে পরিবারের ছেলেমেয়েদের জীবন বিশৃঙ্খল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা এই বিশৃঙ্খলা থেকে ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পরিণামে অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটায়। আমরা প্রতিদিনের পত্রপত্রিকায় এ ধরনের দেখা যায়।

বাংলাদেশে মাদকের আগ্রাসন:

আমাদের দেশে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা এই মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। মায়ানমার থেকে অবাধে এ দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা, যাতে আক্রান্ত হয়েছে বহু তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী। দর্শনার ‘কেরু এন্ড কোম্পানি এদেশের একমাত্র লাইসেন্সধারী মন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিন্তু তার বাইরে বহু বিদেশি কোম্পানির মদ অবৈধভাবে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাঁজা ও আফিমের মতাে মাদকদ্রব্য প্রায় উন্মুক্তভাবে দেশের সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এবং মাদকসেবীরা তা অবাধে ক্রয়ও করছে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা:

মাদকের রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ ও আগ্রাসী। একে অনেকটা অপ্রতিরােধ্য রােগ এইডস-এর সঙ্গে তুলনা। করা যেতে পারে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মতােই মাদকাসক্তি মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ইয়াবা ও হেরােইনের মতাে মাদকদ্রব্য মানুষের শরীরের সমস্ত রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এর আসক্তিতে মানুষ এক অস্বাভাবিক জীবনযাপন করে। নেশায় আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থজীবনে ফিরে আসাও খুব সহজ হয় না। মাদক বন্ধ করা মাত্রই উইথড্রয়াল সিমটম’ শুরু হয়। তখন মাদক না পেলে শুরু হয় টার্কি পিরিয়ড’; হাত পা কাঁপতে থাকে; অসম্ভব শারীরিক যন্ত্রণা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হৃদপিণ্ডে আঘাত করে। এই সময় সুচিকিৎসা না পেলে খুব অল্প সময়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

মাদকাসক্তির প্রতিকার:

পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সচেতনার মাধ্যমে একজন মানুষকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত
রাখা সম্ভব। পারিবারিকভাবে একজন নারী বা পুরুষের জীবন যদি সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে তাহলে তার মাদকের সংস্পর্শে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলাের এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে তারা নানাভাবে মাদকদ্রব্যবিরােধী প্রচারণা চালাতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও এর সঙ্গে নিয়ােজিত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সার্বিকভাবে একজন মানুষকে যদি তার নিকটাত্মীয়রা খুব ভালােভাবে পরিচর্যা করে এবং রাষ্ট্র যদি তাকে সুস্থভাবে বাঁচার পরিবেশ করে দেয় তবে খুব সহজেই মাদকাসক্তির প্রতিকার করা সম্ভব।

উপসংহার:

একটি দেশের গতিশীলতাকে অব্যাহত রাখে তরুণসমাজ। তারাই যদি মাদকের কবলে পড়ে নিজেদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয় তবে দেশের সার্বিক অগ্রগতি চরমভাবে বিনষ্ট হবে। তাই তরুণসমাজকে মাদক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এর কারবারীদের সর্বার্থে বয়কট করতে হবে। তাদের ঐক্য ও সুস্থজীবনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ। মাদকমুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

মাদকাসক্তি অনুচ্ছেদ রচনা, মাদকের ভয়াবহতা, রচনা মাদকাসক্তি নিয়ে প্রতিবেদন, রচনা মাদকাসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ, রচনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, বিনির্মাণে মাদক নির্মূলের গুরুত্ব রচনা pdf ,মাদকের ধ্বংসাত্মক প্রভাব এবং প্রতিরোধে তরুণ সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য, মাদকাসক্তি প্রতিরোধের উপায়, মাদক প্রতিরোধে তরুণ সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য(৫টি রচনা), মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা,মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা (৮৩০ শব্দ),মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার (২০ পয়েন্ট),মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার রচনা (৮৩০ শব্দ)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »