১৫০ টাকার সাইকেল মেকানিক থেকে আজ কোটি টাকার ব্যবসা

ভাগ্য কেবল সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকে- যারা সমস্যাকে ভয় না পেয়ে সাফল্যের পথেভাগ্য কেবল সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকে- যারা সমস্যাকে ভয় না পেয়ে সাফল্যের পথে হাঁটেন। একটু দেরি হলেও তারা সফলতা পায়। ঠিক তেমনই একজন ভারতের মধ্য প্রদেশের কাতলায় জন্ম নেওয়া রাহুল তানেজা।

তিনি এক সময় ১৫০ টাকায় সাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি হয়তো কখনো ভাবেননি, একদিন তার ভাগ্য ঘুরে যাবে এবং ১৫০ টাকার চাকরি থেকে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হবেন একদিন। শুধু তা নয়, সম্প্রতি ১৬ লাখ টাকা দিয়ে নিজের গাড়ির জন্য একটি বিশেষ ভিআইপি নম্বর কিনেছেন। তার গাড়িতে ভারতের খুব দামি নম্বরপ্লেট লাগিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে লোফিসেয়েলের প্রচ্ছদকন্যা হলেন ফারনাজ আলম

এ কারণে তিনি ওই সময় শিরোনামেও ছিলেন। কর্মজীবন শুরু মাত্র ১১ বছর বয়সেই। সাফল্য তার কাছে রাতারাতি আসেনি। অনেক পরিশ্রম ও দৃঢ় উদ্দেশ্য নিয়ে অর্জিত করতে হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে তার পরিবারের সঙ্গে জয়পুরে বসবাস শুরু করেন। তার বাবা সাইকেল রিপেয়ারের কাজ করতেন রাহুল ছোটবেলা থেকেই বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এই স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি বাড়ি ছেড়ে কাজ শুরু করেন মাত্র ১১ বছর বয়সে। এর পর মাত্র ১৫০ টাকায় একটি কাজ শুরু করেন।

ব্যালে নাচ যখন স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতিশব্দ

তার বিশেষ বিষয় হলো, এই চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন। বন্ধুদের কাছ থেকে বই-কপি চেয়ে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার কঠোর পরিশ্রম প্রতিফলিত হয়। তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছিলেন। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় দুই বছর ধরে রান্নার কাজ করেছিলেন। তার পর আরও কাজ করেছিলেন রাহুল- দীপাবলিতে পটকা বিক্রি করা, হোলিতে রঙ বিক্রি করা ইত্যাদি

শুধু তা নয়, একটি সংবাদপত্রে এও জানিয়েছে, তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় তিনি খবরের কাগজ বিতরণ করতেন এবং একটি অটোরিকশা চালানোর কাজও করতেন। পরে খুললেন নিজের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। অনেক খারাপ পরিস্থিতিতেও তিনি সাহস হারাননি। ভাগ্যের চেয়ে কঠোর পরিশ্রমকে বেশি বিশ্বাস করেছিলেন

রাহুল যখন কলেজে পড়তেন, তখন তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বিবেচনা করে তার বন্ধুরা তাকে মডেলিংয়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন। বন্ধুদের এই পরামর্শ তিনি পছন্দ করেন এবং মডেলিং শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে জয়পুরে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। জয়পুর ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এই ফ্যাশন শোর পর অনেক বিজ্ঞাপন থেকে অফার পেতে শুরু করেন এবং তিনি সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন।

এর পর রাজ্যের বাইরেও ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে শুরু করেছিলেন। ধীরে ধীরে ইভেন্টের আয়োজন করা শুরু করেন এবং কয়েকদিনের মধ্যে নিজের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি খুলেছিলেন। এই কোম্পানির দাম বর্তমানে কোটি টাকার বেশি। এভাবে তিনি কঠোর পরিশ্রম ও উচ্চ আকাক্সক্ষার সামনে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে এবং এগিয়ে যেতে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »