টিপ পরার অধিকারের আন্দোলন থেকেই শুরু হল সব ধরনের অধিকার আদায়ের আন্দোলন মেয়েদের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত তসলিমা নাসরিন

সুবর্ণা মুস্তাফা বিখ্যাত মহিলা। তিনি যদি শিক্ষিকা লতা সমাদ্দারকে এক মৌলবাদী পুলিশের অপমান অপদস্থ করার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ না করতেন, সোশ্যাল মিডিয়ায়, পত্র পত্রিকায়, টিভিতে এ নিয়ে খবর হতো না। কেউ পোস্টার নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করতে বেরোতো না।

মেয়েরা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অপমানিত হচ্ছে। ঘরে বাইরে, অফিসে আদালতে, কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে, হাটে মাঠে ঘাটে, বাসে ট্রেনে, লঞ্চে সর্বত্র। কটি অপমানের প্রতিবাদ হয়? মেয়ে হয়ে জন্মেছে, সে কারণে পেতে হচ্ছে অবজ্ঞা, উপেক্ষা, হেনস্থা, নির্যাতন। টিপ অতি তুচ্ছ বিষয়। টিপ পরলেই বাঙালি সংস্কৃতি টিকে থাকবে, তা না হলে নয়, এ ঠিক কথা নয়। প্রতিটি মেয়ে নির্বিঘ্নে টিপ পরলেও বাঙালি সংস্কৃতির মাথা লক্ষ্য করে অনেক আগেই বড় এক কোপ বসানো হয়ে গেছে। সে কারণে আমরা চারদিকে দেখছি বাঙালি মেয়েদের মাথায় আরবীয় সংস্কৃতির হিজাব, বোরখা ।

টিপ পরার অধিকার যেমন চাই, যা কিছু পরারও তো অধিকার চাইতে হবে, সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরার অধিকার, রাস্তায় মিনিস্কার্ট পরার অধিকার, শর্টস পরার অধিকার, লো-কাট শার্ট পরার অধিকার, মোদ্দা কথা লুঙ্গি গেঞ্জি ঘোড়ার ডিম অর্থাৎ যা-ইচ্ছে-তাই পরার অধিকার। এবং একই সঙ্গে না-পরার অধিকারও চাইতে হবে। হিজাব বোরখা না পরার অধিকার, ওড়না নামের বাড়তি কাপড় না পরার অধিকার। নানা কিছু করা এবং না করার অধিকারও চাইতে হবে। যেখানে খুশি সেখানে যাওয়ার অধিকার, যার সঙ্গে মিশতে ইচ্ছে করে, তার সঙ্গে মেশার অধিকার, রোজার সময় ক্যাফে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার অধিকার, এবং অতি অবশ্যই নিরাপত্তার অধিকার।

নারীর যৌনতা: কাম বাসনা কি শুধু পুরুষের বিষয়, নারীকে কেন নিরুৎসাহিত করা হয়?

নামাজ না পড়ার অধিকার, রোজা না করার অধিকার, যা করতে ইচ্ছে করে না, তা না করার অধিকার, পুরুষের এবং ধর্মের শাসন না-মানার অধিকার। মানার এবং না-মানার প্রচুর অধিকার থেকে বাংলাদেশের মেয়েরা ভয়াবহ রকম বঞ্চিত।

টিপ পরার অধিকারের আন্দোলন থেকেই না হয় শুরু হোক সব রকম স্বাধীনতা নিয়ে মেয়েদের বাঁচার অধিকারের আন্দোলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »